Posts

Showing posts from May, 2021
Image
           সাম্যের রাজা, স্বপ্নের ফকির           শৌণক দত্ত   আমেরিকার রন্ধ্রে ইতিহাস নিয়ে লালায়িত থাকার অভ্যাস নেই। এই দেশ ছুটছে তার যোগান আর চাহিদার তুল্যমূল্য বিচারের রোজনামচা নিয়ে। ঐতিহাসিক অবসাদে আটকে পড়ার ভয়ে গতি বাড়িয়ে রাখতেই সে বেশী স্বচ্ছন্দ। তবু, বরফঝরা কোনও রাতে পিছন ফিরে তাকালে এক সমাজ-রাজার প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে; মনে পড়ে মার্টিন লুথার কিং-এর (জুনিয়র) কথা। যিনি আমেরিকার দাম্ভিক মলাটকে প্রশ্ন করার ঐতিহাসিক দায় নিতে পেরেছিলেন। তাই অবদমনের ইতিহাস ঘাঁটলেই তাঁর নামটা ধ্রুবতারা হয়ে ফুটে ওঠে, আর কন্ঠের অসম্ভব দৃঢ়তার অনুরণন শুনতে পাওয়া যায়। ১৯৬৩-র ২৮শে আগস্ট ওয়াশিংটনের রাস্তায় মানুষের মাথা ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। বিরাট জনসমাবেশের সামনে মার্টিন লুথার কিং উঠে দাঁড়ালেন তাঁর স্বভাবোচিত দৃপ্ত ভঙ্গিতে। বললেন, “আমাদের দেশের ইতিহাসে স্বাধিকার আন্দোলনের বৃহত্তম জাগরণে আজ আমরা একসাথে মিলিত হয়েছি। অসংখ্য কালো চামড়ার মানুষ একশো বছর আগে এদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আশার আলো দেখেছিল, ভেবেছিল ‘মানুষ’ হয়ে...
Image
   নব অথবা পুনর্জাগরণ শৌণক দত্ত দেশ আমাদের বীরভোগ্যা সেকথা আমরা সকলেই জানি এবং মানি। সমাজের সমস্ত স্তরে বীরের খোঁজ করতে গিয়ে খানিকটা ব্রেশটীয় করুণাও আমাদের প্রাপ্য। প্রণম্যদের প্রণাম করতে করতে আদতে আত্ম-উত্তরণের পথে দিগভ্রান্ত হয়েছি আমরা। তবু, কয়েকজন মানুষ আছেন যাঁদের জীবনভোর সাষ্টাঙ্গ প্রণাম আর স্তুতিতে ভরিয়ে দিয়েও মনে হয় উপচারে কোথাও বুঝি ত্রুটি রয়ে গেল। সত্যজিৎ রায় তেমন একজন মানুষ। বৈদগ্ধ্যের বৃত্তে অনেকেই তাঁকে ‘বেঙ্গল রেনেসাঁ’-র শেষ ব্যাটনধারী বলেছেন, নানারকম বিশেষণে অভিহিত করেছেন। তাঁর শিল্পকে প্রতি ছত্রে ছত্রে আবিষ্কার ও পুনরাবিষ্কারের পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। তাই, সত্যজিত-এ অঞ্জলি অর্পণের অযোগ্যতার কথা পুরোপুরি স্মরণে রেখে এবং বাঙালি চেতনার পঞ্জীকে বিনীতভাবে স্বীকার করেও আজ নতুন করে বলার সময় এসেছে যে, সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতাকে যদি মাপকাঠি ধরা হয়, তবে দুজন মানুষ আমাদের বৃ্ত্তে সমভাবে অপরিহার্য। কেবলমাত্র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কারণে নয়। নিজেদের শিল্পকীর্তির প্রতি আত্মবিশ্বাস ও সততার জন্যে।   একজনের রচনাবলীর সবটা ঘরে রাখা আজও অনেকের স্বপ্ন, আর অন্যজনের প্রতিটা স...